ঢাকা , শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬ , ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উচ্চফলনশীল আউশ ধানের নতুন জাত ‘জিএইউ-৪’ উদ্ভাবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-০৪ ১৯:১৪:১৬
উচ্চফলনশীল আউশ ধানের নতুন জাত ‘জিএইউ-৪’ উদ্ভাবন উচ্চফলনশীল আউশ ধানের নতুন জাত ‘জিএইউ-৪’ উদ্ভাবন
 
নিজস্ব প্রতিবেদক
উচ্চফলনশীল, স্বল্পমেয়াদি এবং চিকন আউশ ধানের নতুন জাত ‘জিএইউ ধান-৪’ উদ্ভাবন করেছেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) গবেষকরা। প্রায় এক দশকের গবেষণা ও পরীক্ষার পর সম্প্রতি জাতটি অনুমোদন পেয়েছে। উদ্ভাবকরা বলছেন, এ জাত কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 
শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এম ময়নুল হক ও মসিউল ইসলামের নেতৃত্বে গবেষকদল ধানের নতুন জাতটি উদ্ভাবন করে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত ধানের জাতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটিতে এবং মোট উদ্ভাবিত ফসলের জাতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৫টি।


বাংলাদেশে আউশ ধানের ফলন সাধারণত আমন ও বোরো মৌসুমের তুলনায় কম। তবে নতুন এ জাত সে সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। ‘জিএইউ ধান-৪’ স্বল্প সময়ের মধ্যে পরিপক্ব হয়। এর ফলে কৃষকরা দ্রুত জমি খালি করে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মঙ্গাপীড়িত এলাকায় এ জাত নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, প্রচলিত আউশ ধান ‘পারিজা’ ও উচ্চফলনশীল চিকন জাত ‘বিইউ ধান-২’-এর সংকরায়নের মাধ্যমে নতুন জাতটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। দীর্ঘ গবেষণা ও নির্বাচনের মাধ্যমে ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা শেষে ২০২৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় ‘জিএইউ ধান-৪’ জাতের অনুমোদন দেওয়া হয়।

জানা যায়, নতুন এ ধানের চাল পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে অ্যামাইলেজ এনজাইমের পরিমাণ প্রায় ২৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। এর ফলে এটি সহজে হজমযোগ্য এবং মানবদেহের পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক। দানা লম্বা ও চিকন। বীজ বপনের ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে ফসল কাটা যায়। অনুকূল পরিবেশে প্রতি হেক্টরে পাঁচ থেকে ৫ দশমিক ৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। প্রতি হেক্টরে ২৫-৩০ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়, যা কৃষকের জন্য ব্যয়সাশ্রয়ী।

গবেষকরা জানান, জিএইউ-৪ জাতটি রোগবালাই প্রতিরোধী এবং সাধারণ জাতের তুলনায় গড়ে ১০-১৫ শতাংশ বেশি ফলন দিতে সক্ষম। পাশাপাশি কম পানি প্রয়োজন হওয়ায় এটি জলবায়ু সহনশীল ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাষযোগ্য।

উদ্ভাবক ড. মসিউল ইসলাম জানান, কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল এ জাত উদ্ভাবনের মূল লক্ষ্য। আমরা চেয়েছি এমন একটি আউশ ধান উদ্ভাবন করতে, যা কম সময়ে বেশি ফলন দেবে এবং বাজারে গ্রহণযোগ্য হবে। জিএইউ ধান-৪ সে লক্ষ্য পূরণ করেছে।

এদিকে, ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, এ উদ্ভাবন গবেষকদের নিষ্ঠা ও মেধার প্রতিফলন। এটি দেশের কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ